হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ ইয়াসিন আল-মুসাভি এ মন্তব্য করেছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের বিষয়ে ইরাক সরকারকে বাগদাদের জুমার নামাজের ইমামের সতর্কবার্তা।
জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের ধারণাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ইরাকের জনগণের সঙ্গে আহলে বাইত (আ.) এবং অন্যান্য মুসলিম জাতির ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক দুর্বল করার প্রচেষ্টার সমালোচনা করেন আল-মুসাভি।
তিনি ১৯৯০-এর দশকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, শিয়া আকিদার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরতে তিনি ‘মুলাহাজাত’ (পর্যবেক্ষণ) শীর্ষক একটি বই রচনা করেছিলেন। এ কারণে তাঁর বক্তব্য ও লেখালেখির জন্য তাঁকে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিল।
তিনি প্রচলিত রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণাগুলো নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা, বিতর্ক এবং সেগুলোর যথার্থতা ও বৈধতা যাচাই করার আহ্বান জানান।
এরপর তিনি শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুহাম্মদ বাকির সদর (রহ.)-এর ইরানের ইসলামী বিপ্লবের প্রতি সমর্থনের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন।
আল-মুসাভি বলেন, শহীদ সদর ইসলামী উম্মাহর ঐক্যের প্রতি বিশ্বাস থেকেই তাঁর অবস্থানের পক্ষে কথা বলতেন। সাইকস-পিকো চুক্তিসহ ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর আঁকা সীমান্তকে তিনি মুসলিম জাতিগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতেন না।
আল-মুসাভি বিশ্বব্যাপী শিয়া মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনা ও বিশ্বাসে ইরাকের বিশেষ অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশটির পবিত্র নগরীগুলোর সঙ্গে আহলে বাইত (আ.)-এর ইতিহাসের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ইমামগণের পবিত্র মাজার এবং হাওজা ইলমিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো ইরাককে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।
নাজাফে আশরাফ, কারবালায় মুয়াল্লা এবং সামারার বিশেষ অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারত এবং পবিত্র কারবালার মাটির প্রতি বিশ্বের শিয়াদের গভীর ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক শ্রদ্ধা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইরাকের জনগণের সঙ্গে আহলে বাইত (আ.)-এর সম্পর্ক কেবল ভৌগোলিক কোনো সম্পর্ক নয়; বরং এটি গভীর ও সুদৃঢ় ঐতিহাসিক এবং আকিদাগত ধারাবাহিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইরাকি সমাজের পরিচয় ও ইতিহাস থেকে এ সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়।
আল-মুসাভি এমন কিছু বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন, যেখানে ইরান ও ইরাকের সম্পর্ককে দুটি পরস্পরবিরোধী পরিচয়ের সংঘাত হিসেবে তুলে ধরা হয়। তাঁর মতে, এ ধরনের প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের জনগণের মধ্যকার ধর্মীয় ও সামাজিক বন্ধন দুর্বল করা।
এ প্রসঙ্গে তিনি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরাকি বাহিনী ও পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (হাশদ আশ-শাবি) পাশাপাশি ইরানি যোদ্ধা ও সামরিক কমান্ডারদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরাকের জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার অর্থ ইরান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়। কারণ, দুই দেশের সম্পর্ক সীমিত রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে এবং গভীর ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সামাজিক বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারতকারীদের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। বিশেষ করে বিমান চলাচল ও স্থলসীমান্তসংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধের সমালোচনা করে আল-মুসাভি বলেন, এ ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করে জিয়ারতকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়। একইভাবে, ইরান ও ইরাকের সম্পর্কের ওপর চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবেও এসব পদক্ষেপ ব্যবহার করা উচিত নয়।
বক্তব্যের অন্য এক অংশে আল-মুসাভি কয়েকটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করা এবং সাধারণ নাগরিকদের স্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
আপনার কমেন্ট